logo
0
item(s)

বিষয় লিস্ট

আহসান হাবীব এর ব্রেকিং রম্য

ব্রেকিং রম্য
এক নজরে

মোট পাতা: 136

বিষয়: রম্য

  • ৳ 35.00
  • + কার্ট-এ যোগ করুন

রেস্টুরেন্ট

 

 

 

স্যার, আপনার রেস্টুরেন্টে কি গন্ডারের বটি কাবাব পাওয়া যাবে?

প্রশ্নটা শুনে যে কেউ চমকে যাবে। কিন্তু জগলুল আব্বাসকে এ রকম প্রশ্ন কেউ করলে তিনি মোটেই চমকাবেন না। কারণ তিনি এমন একটা রেস্টুরেন্ট দেয়ার চিন্তাভাবনা করছেন, যেখানে তাকে এ ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। এবং সবকিছুই পাওয়া যাবে। গন্ডারের বটি কাবাব তো মামুলি। হাতির শুঁড়ের স্যুপ, এনাকোন্ডার নুডুলস, উটপাখির ডিমের ডিম চপ, সব... সব পাওয়া যাবে।

তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। বেশ কিছু ক্যাশ নিয়ে ফিরেছেন। দেশে এসে তার একটা সেই রকম রেস্টুরেন্ট দেয়ার ইচ্ছা। তিনি আট-নয়টা দেশ ঘুরেছেন। সব দেশই তিনি রেস্টুরেন্টে রেস্টুরেন্টে ঘুরেছেন... খেয়েছেন কখনো কখনো, কোনো কোনো রেস্টুরেন্টে কাজও করেছেন। কাজেই রেস্টুরেন্টের ওপর তার ব্যাপক অভিজ্ঞতা। একেক দেশে একেক অভিজ্ঞতা। তবে যেই অভিজ্ঞতা থেকে তার ওই ধরনের একটা রেস্টুরেন্ট দেয়ার চিন্তা মাথায় এসেছে, সেই অভিজ্ঞতাটা বরং শেয়ার করা যাক।

... বুলগেরিয়ার এক রেস্টুরেন্টে তিনি একবার খেতে গেলেন। সেখানে খেতে যাওয়ার অবশ্য একটা কারণ আছে। কারণ ওই রেস্টুরেন্টের বাইরে বিশাল সাইনবোর্ড, তাতে বড় বড় করে লেখা : ‘এই রেস্টুরেন্টে আপনারা যা ইচ্ছা অর্ডার করতে পারেন। আমরা দিতে ব্যর্থ হলে ৫০০০ লেভ (বুলগেরিয়ান টাকা) জরিমানা দেব।’

ইন্টারেস্টিং সাইনবোর্ড। জগলুল সাহেব ঢুকে গেলেন। কোনার একটা টেবিলে বসলেন। একটু পর বেয়ারা ছুটে এসে বলল, স্যার, কী দেব? (বুলগেরিয়ান ভাষায়)

—পান্ডার খিরি কাবাব আর নান।

ওকে স্যার বলে বেয়ারা অর্ডার লিখে নিয়ে চলে গেল। জগলুল সাহেব চমকে গেলেন। পান্ডা হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম এনডেনজার্ড স্পেসিস। তার খিরি কাবাবও এরা দেবে? তাও কি সম্ভব? তার পান্ডার খিরি কাবাব খাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই। ওদের আটকে দিয়ে ৫০০০ লেভ কামানোর ধান্দা করেছিলেন। কিন্তু ওরা এখন পান্ডার খিরি কাবাব আনতে গেল!! এটা কি সত্যিই সম্ভব?

একটু পর বেয়ারা এলো।

—কী হলো?

—সরি স্যার।

—সরি কেন?

—আমরা স্যার আপনার অর্ডার ডেলিভারি দিতে ফেইল করেছি। আমাদের হোটেলের নিয়ম অনুযায়ী এজন্য আমরা আপনাকে ৫০০০ লেভ জরিমানা দিতে বদ্ধপরিকর। রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সাহেব ৫০০০ লেভ নিয়ে আসছেন। জগলুল সাহেব যারপরনাই খুশি হলেন মনে মনে। যাক, নেট লাভ ৫০০০ লেভ মানে দুই লাখ ষাট হাজার টাকা বাংলাদেশি টাকায়...!!

একটু বাদেই ম্যানেজার সাহেব এলেন। তার হাতে একটা মোটা সাদা খাম। ম্যানেজার সাহেব বিনীতভাবে খামটা জগলুল সাহেবের হাতে ধরিয়ে দিলেন। এবং মুখে সরি বললেন।

—না না ঠিক আছে। সরির কিছু নেই।

—না না, অবশ্যই সরির ব্যাপার আছে স্যার... আমরা গত তিন বছরে কোনো কাস্টমারের অর্ডার ফেইল করিনি। শুধু আজকেই করলাম।

—না না, এটাতে সরি হওয়ার কিছু নেই। আমার আসলে পান্ডার মতো এনডেনজার্ড প্রাণীর খিরি কাবাব অর্ডার করা ঠিক হয়নি। ৫০০০ লেভের খামটা জ্যাকেটের পকেটে ঢোকাতে ঢোকাতে বলেন জগলুল।

না স্যার। পান্ডার জন্য নয়, আজই প্রথম আমাদের নানরুটি শর্ট পড়ে গেল। তাতেই...

শুনে জগলুলের চোয়াল ঝুলে গেল। ম্যানেজার বলে কী!

যাহোক, বুলগেরিয়ার সেই রেস্টুরেন্ট থেকেই তার মাথায় আইডিয়াটা আসে। তিনি দেশে ফিরে একটা রেস্টুরেন্ট দেবেন। সেই রেস্টুরেন্টে সব পাওয়া যাবে। অর্ডার ফেইল করলে ৫০০০ টাকা জরিমানা। তবে তার বিজ্ঞাপনে একটু ফাঁক আছে। যেকোনো কিছু অর্ডার দেয়া যাবে। তবে বাংলাদেশে যা পাওয়া যায় তার ওপর ভিত্তি করে অর্ডার দিতে হবে। ঢাকায় বসে আফ্রিকান এনাকোন্ডার স্যুপ চাইলে হবে না।

যাহোক, একদিন সত্যি সত্যিই জগলুল সাহেব একটা অত্যাধুনিক রেস্টুরেন্ট দিয়ে বসলেন। উদ্বোধন করালেন খাদ্যমন্ত্রী আলহাজ মোজাম্মেল শিকদারকে দিয়ে। মন্ত্রী মহোদয় রেস্টুরেন্টের প্রথম অর্ডার করতে গিয়ে তার পিএ-কে ডাকলেন। ফিসফিস করে বললেন, আচ্ছা, কি অর্ডার করা যায় বলো তো?

—স্যার, চিকেন টাং ফ্রাইয়ের অর্ডার করেন। বিদেশে এ জিনিস খেয়েছি আমরা। এখানে আছে...

মন্ত্রী অর্ডার করলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে চলে এলো চিকেন টাং ফ্রাই। জিনিসটা দেখে সন্দেহ হলো মন্ত্রীর, পিএএর ওপর মেজাজও খারাপ হলো। পিএ ফজলুকে ডেকে মন্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, ‘জিনিসটা কী?’

স্যার, এটা চিকেন টাং ফ্রাই মানে সাদা বাংলায় মুরগির জিহ্বার ভাজি।

 শুনেই বমি এসে যাওয়ার জোগাড় হলো মন্ত্রী মহোদয়ের। কোনোমতে বললেন—ছিঃ ছিঃ মুরগি কত আজেবাজে নোংরা জিনিস খায় মুখ দিয়ে। সেই মুখের ভেতরের জিভের ভাজি? ছ্যা ছ্যা... এর চেয়ে বরং একটা ডিম পোচ আনো...

যাহোক, মন্ত্রী মহোদয় ডিম পোচ খেয়ে রেস্টুরেন্ট উদ্বোধন করে বিদায় হলেন। তারপর রেস্টুরেন্টে উপচে পড়া ভিড়। যা-ই অর্ডার দেয়া যায়, তাই পাওয়া যায়। অর্ডারের কিছু নমুনা দেয়া যাক।

১. বাঘের দুধের ঘোল (অর্ডার দেয়ামাত্র চলে এসেছে। দাম একটু বেশি)

২. খাটাশের ডিমের মামলেট (অর্ডার দেয়ামাত্র চলে এসেছে। দাম মোটামুটি)

৩. ফ্রাইড ভালচার (অর্ডার দেয়ামাত্র চলে আসতে একটু দেরি হয়েছে তবে এসেছে। দাম বেশ বেশি) ইত্যাদি ইত্যাদি!

ভালোই চলছিল জগলুল সাহেবের রেস্টুরেন্ট। এখন পর্যন্ত ৫০০০ টাকা জরিমানা দিতে হয়নি কাউকে। কিন্তু একদিন দিতে হলো।

দিনটা ছিল শুক্রবার। সকালের দিকে এক কাস্টমার এলেন। কোনার দিকের এক টেবিলে বসে বেয়ারাকে ডেকে পাঠালেন।

আপনাদের রেস্টুরেন্টে যা অর্ডার দেব তাই তো আপনারা দিতে বাধ্য। তাই না?

জি স্যার। ফেইল করলে ৫০০০ টাকা জরিমানা দিতেও বাধ্য আমরা।

—ভেরি গুড। আমার আসলে ওই ৫০০০ টাকাই দরকার। বাড়িভাড়া বাকি পড়েছে। এক রুম সাবলেট নিয়ে থাকি... বোঝেন তো ভাই...

কিন্তু আগে তো আপনাকে অর্ডার করতে হবে। আমরা ফেইল করলে না আপনি ৫০০০ টাকা পাবেন।

—বেশ, অর্ডার করছি। নিয়ে আসুন যেই প্রাণীটাকে আমরা জন্মের আগেই খেয়ে ফেলি তার ঝাল ফ্রাই আর তন্দুর।

বহু চিন্তা করেও জগলুল সাহেবের মাথায় খেলল না প্রাণীটা কী? শেষে তিনি হতাশ হয়ে ৫০০০ টাকা ক্যাশ জরিমানা দিলেন লোকটাকে। লোকটা হাসিমুখে ৫০০০ টাকার খামটা পকেটে ঢোকাতে ঢোকাতে বললেন, কেন, আপনাদের স্টকে মুরগি নেই?

 

 

সংশ্লিষ্ট বই

পাঠকের মতামত
  • Rating Star

    “Few Stories are humorous. 😂. ” - Chowdhury Arefin

রিভিউ লিখুন
রিভিউ অথবা রেটিং করার জন্য লগইন করুন!