logo
0
item(s)

বিষয় লিস্ট

দীলতাজ রহমান এর মা আমার চোখের আলো

মা আমার চোখের আলো
এক নজরে

মোট পাতা: 31

বিষয়: গল্পগ্রন্থ

  • ৳ 20.00
  • + কার্ট-এ যোগ করুন

হাসিবুল যখন ঢাকা আসে তখন ওর বয়স সাত বছর। কম খাওয়া শরীর, তাই বয়সের তুলনায় শরীরের বাড় ছিল কম। ওর এক মামা প্রথম যে বাড়িতে কাজ করতে দিয়েছিলো, ওকে দেখে সেই বাড়ির কর্তা এবং গিন্নী সেই মামার ওপর ভীষণ রাগ করেছিলেন। এমনকি সে রাগ কিছুটা ওই হাসিবুলের ওপরও কিছুটা গিয়ে পড়েছিলো। কারণ ওইটুকু মানুষ কোনো সাহসে কাজ করতে এতদূর এসেছে! হাসিবুলের সমান বয়সি ছেলেমেয়ে দুটির তো সেদিন হাসিতে লুটোপুটি খাওয়ার দশা। এতটুকু মানুষ কাজ করতে এসেছে বলে। দুঃসম্পর্কের মামাটির তখন নাজেহাল অবস্থা। হাত জোড় করে বলেছিল, আপনাগের জন্যই তো অনেক খুঁইজে তবেই ওরে এইনেছি! আপনাগের ড্রাইভার এমন কইরি কলো...। গেরামেও এহন কাজের মানুষ পাওয়া যায় না। কয়দিন রাকেন। দেখেন। গ্রামের ছাওয়াল- মাইয়ে দেহা যায় এত্তোটুকু। কিন্তু এগুলোর বুদ্ধিতে একেবারে পাকা! একটু শিখাইয়া পড়াইয়া নিতে পারলিই হয়।... আর না পুষালি আবার বাড়ি যাওয়ার সুমায় নিই যাবানি! মাত্র আজই আসলাম, এহন তো আমার আবার ফিরে যাওয়ার টাকা নাই।

মামার কথার কোনো উত্তর তারা খুঁজে পাননি বলেই ওকে রেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু গিন্নী প্রায় একসঙ্গে বলেছিলেন, ঠিকাছে, তাড়াতাড়ি নিয়ে যেও! সন্ধ্যার বাতিগুলো প্রায় একসঙ্গে ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠার আগেই মামা হাসিবুলের চোখের সামনে থেকে হনহন করে চলে গিয়েছিলো। একবারও পেছনে ফিরে তাকায়নি। আর সে যাওয়া দেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেছিল হাসিবুল। এর আগে এই মামাকে এখনো তার মতো আপন মনে হয়নি। দেখেছেও মাত্র দুতিনবার। তাও নানার বাড়ি গেলে। কিন্তু অচেনা পরিবেশে তাকেই মনে হয়েছিলো বুকের ভেতর নিঃশ্বাসের মতো জরুরি। কোথায় থাকে মামা, কবে আসবে, কিছুই বলে যায়নি। শুধু পালিয়ে যাওয়ার মতো দ্রুত সটকে পড়েছে। হাসিবুল কান্না শুরু করলে কেউ তাকে দুটো সান্ত্বনার কথা বলে না। বরং উল্টো ধমক দিয়েছে, থাকতে পারবি না তো এসেছিল কেন? সবার তুচ্ছ তাচ্ছিল্যভাব হাসিবুলকে অসীম সাগরে ফেলেছিলো। সারাক্ষণ গুটিশুটি হয়ে এখানে ওখানে, প্রায় দেয়ালের সঙ্গে লেপ্টে থাকতো। কিন্তু কাজ না করে ভাত খাওয়া জন্য গিন্নি তাকে যেভাবে ধমকাতো, তাতেই যেন কদিনে সে জীবনের অনেকখানি দেখে ফেলেছে। হাসিবুল মনে মনে বলতো- ইস কাজ তো এইটুকু, ঘর ঝাড় দেয়া। কাপ-পিরিচ ধোয়া, দোকানে যাওয়া! বাড়িতে এতে কত বেশি কাজ করি! হাঁসের জন্য শামুক টোকাই। ধান কুড়াই। মাছ মারি। সপ্তায় দুইদিন হাঁটে যাই। আনাজ তরকারি বেচি। আর এটুকু কাজ করতে দিলে বুঝি না পারি? শুধু সাহস করে হাত লাগনো। কিন্তু বাড়িতে তার সমান ওই ছেলেমেয়ে দুটি অযথাই তাকে খোঁচাতো। কাতুকুতু দিতো। তারা টেলিভিশন দেখতে গেলে হাসিবুলকে সরিয়ে দিতো। অথচ, ভালোভাবে কথা বললে সে তো ওদের সব কাজই করার চেষ্টা করতো। তার মনটা ভালো হয়ে যেতো।

বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়ালেই মায়ের জন্য, ছোট ভাইটির জন্য বুকটা হু হু করে উঠতো হাসিবুলের। ইচ্ছে হতো উড়াল দিতে। দুচারটি পাখির উড়াউড়ি দেখে তাদের ডানায় মন ভাসিয়েছে কতদিন।

মেঘ দেখলে, চাঁদ দেখলে তার মনে হতো- মা আর হাবিবুলও এই মেঘ, চাঁদ দেখতে পাচ্ছে। হাসিবুল রাস্তায় নেমে পড়ার সুযোগও খুঁজেছে কদিন। পারেনি। গেটের কাছে সারাক্ষণ বসে থাকা পাঁচ-ছজন দারোয়ানের সবাইকে বুঝিয়ে বলা ছিল, এই পুঁচকে যেন বের হতে না পারে। ওর বাড়ির ঠিকানা, বাবার নামসহ চেয়ারম্যানের নামও লিখে যত্ন করে রেখে দিয়েছেন বাড়ির কর্তা। ঘরের ভেতরে ওর ছবি তুলেছেন গিন্নি। তবে যে জন্যই ছবি তোলা হোক, ছবি তোলার পরে ওর খুব ভালো লেগেছিল। যদিও সে ছবি ওর দেখা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট বই

পাঠকের মতামত
  • Rating Star

    “ ” - Robi User

রিভিউ লিখুন
রিভিউ অথবা রেটিং করার জন্য লগইন করুন!